সত্যিই কি ভারত প্রজাতন্ত্র, নাকি ভৃত্যরাই চালকের আসনে বসে রাজতন্ত্রের স্বাদ দেয় আমাদের!

সত্যিই কি ভারত প্রজাতন্ত্র, নাকি ভৃত্যরাই চালকের আসনে বসে রাজতন্ত্রের স্বাদ দেয় আমাদের!

আজ ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে একটা পতাকা তুলে আর দুটো মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা যে ‘ শুভ প্রজাতন্ত্র দিবস’ বলে হাততালি দিচ্ছি , সেই প্রজাতন্ত্র দিবসের মর্ম, গুরুত্ব আদৌ কি আমাদের স্মরনে আছে !?
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় গনপরিষদ সংবিধান কার্যকরী হয়ে ভারত একটি ‘ গনতান্ত্রিক দেশ’ হিসাবে উপখ্যান পায়। গনতান্ত্রিক দেশ অর্থাৎ , আমরা জনগন ভোট দেওয়ার মাধ্যেমে নির্বাচিত করবো যে দেশকে চালিত করবে কারা। এই দিনটি আমাদের এটাই স্মরন করায় যে আমরা জনগনই এই গনতন্ত্রের মূলভিত্তি। আমরাই এই দেশের ভবিষৎ নির্ধারণ করব। গনতন্ত্র মানে প্রজারাই দেশের রাজা। কিন্ত আমরা আমাদের সেই অধিকারগুলো নিয়ে খুবই উদাসীন।

 

আমরা প্রজারাই যদি দেশের রাজা হই তো যাদেরকে ভোটে নির্বাচিত করে দেশের শাসনভারের দায়িত্ব দিই তারা তো আমাদের ‘ভৃত্য’! আসলে এইরকম ভাবে আমরা কখনোই ভেবে দেখি না। নির্বাচনের প্রাগ মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতারা যখন আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসে তখন ভালোভাবে বোধগম্য হয় যে, আমরাই ‘মালিক’। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সেই ‘ভৃত্য’দেরকে প্রশ্ন করতে ভুলে গেছি। আমরা বলতে ভুলে গেছি যে , ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়?’ আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে, আমাদের এই ভৃত্য তথা সেবকদের ধনসম্পত্তি দিন দিন বাড়তেই থাকে আর আমরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকি। এ দেশে ‘মালিক’রাই ‘ভৃত্য’র ভয়ে তাদের অবস্থান ভুলে যায় !

 

সবকিছুর পরেও আমাদের কাছে একটাই আশা বেঁচে থাকে, আমাদের দেশের সংবিধান। যেখানে ‘মালিক-ভৃত্য’ তত্ত্বের সম্পূর্ন বিবরন আছে। কিন্তু আজ এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখানেও গন্ডি টেনে দেওয়া হচ্ছে , ‘ কারা মালিক? মালিক কেমন হওয়া উচিত? ‘ এখন কিছু অংশ থেকে প্রশ্ন উঠছে যে,’ একটা নির্দিষ্ট ধর্মের ব্যাক্তিরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কি এমন করেছে ?’ কিন্তু তারা এটা ভুলে যাচ্ছেন যে , আমাদের দেশের ইতিহাসে যদি ‘ গান্ধি’ অনুসন্ধান করা হয় তাহলে সেখানে দুজন গান্ধিকে পাওয়া যায়- এক, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি দুই, খান আবদুল গফফর খান যাঁকে ‘ সীমান্ত গান্ধি’ নামে অভিহিত করা হয়। আমরা যে ‘জয় হিন্দ’ বলে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই সেই ‘ জয় হিন্দ’ কথাটি আবিদ হাসান নেতাজির ‘ আজাদ হিন্দ ফৌজ’কে দিয়েছিলেন। আমরা যে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান তুলি এটি হযরত মুহানীর দেওয়া। আসলে আমরা ভুলে যাই যে, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সবাই বন্দুক হাতে তুললেও কাদের বন্দুক ইংরেজদের দিকে তাক করা ছিল আর কাদের বন্দুক নিজের দেশের দিকে, দেশের জনতার দিকে।

আজ আমরা নিজেদের অস্তিত্বকেই ভুলে যাচ্ছি। আমাদের এটা ভুললে চলবে না যে, গনতন্ত্র সবার। এখানে জাতি, ধর্ম, ছোট বড়ো কোনো ভেদাভেদ নেই‌। যারা এই ভেদাভেদ করে তারা দেশকে, দেশের সংবিধানকে অপমান করে। ২৬ শে জানুয়ারি যে সংবিধান রচিত হয়েছিল তা আমাদের রক্ষাকবচ, আমাদের গর্ব । আসুন , আমরা সেই সংবিধানকে সম্মান করতে শিখি। আমাদের ভুলে গেলে হবে না যে, আমরাই রাজা। আমাদেরই রাজার রাজত্বে আমাদের অবস্থান কোথায়!