করোনা আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ববাসী, এর মধ্যে হাজির নতুন ত্রাস ‘বার্ড ফ্লু’ আতঙ্ক

চিনের পর প্রতিবেশী সব দেশে রয়েছে করনা আতঙ্ক। এরই মধ্যে নতুন করে যোগ হল বার্ড ফ্লু। এই নতুন আতঙ্কের খোঁজ মিলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান প্রদেশে। জানা গেছে, ইতিমধ্যে বহু মুরগি H5N6 বা বার্ড ফ্লু তে আক্রান্ত হয়েছে। এ ব্যপারে চিনের প্রশাসনের তরফ থেকে একটি প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, ২৪৯৭ টি মুরগি আক্রান্ত হয়েছে। এবং তার মধ্যে ১৮৪০ টি মুরগি মারা ও গেছে। যে স্থানে ঐ অসুস্থ মুরগী গুলো ছিল সেই স্থান ঘিরে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

 

একদিকে করোনা আতঙ্ক। অন্যদিকে এই বার্ড ফ্লু আতঙ্ক। তবে এটাই যে প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লু’র সন্ধান মিলল তা নয়। এর আগেও একবার এই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এর আগে চিনের হুনান প্রদেশে পাঁচটি মুরগী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। ভারতেও এর প্রভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এদিকে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৯০০ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি রবিবার এক দিনেই ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চিনের উহান শহর। পুরো চিন জুড়ে যেমন ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, তেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে চিনের প্রতিবেশী দেশ গুলোতে। মোটামুটি চিনের স্থল সীমান্তে থাকা ১৪ টি দেশে এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

 

ইতিমধ্যে প্রায় সবকটি দেশ চিনের সাথে যোগাযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। চিন সীমান্তের সর্ববৃহৎ দেশ ভারত। তাই ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। ইতিমধ্যে ভারতের একজন ব্যক্তি আক্রান্ত ও হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। তবে ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও এটি বড় আকার ধারণ করতে পারেনি ভারতে।সোমবার একটি রিপোর্টে জানা গেছে, যে একজনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছিল, তিনি ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে ভারতে। এদিকে চিন সীমান্তের সমস্ত দেশকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও আগে থেকেই প্রতিবেশী দেশ ভুটানের সাথে কূটনৈতিক কারণে কোনোরকম যোগাযোগ ছিল না চিনের। এবং উত্তর কোরিয়া চিনের সাথে যোগাযোগ স্থগিত রাখবে নাকি অব্যাহত রাখবে সেব্যপারে কোন তথ্য জানায়নি। কারন উত্তর কোরিয়ার ৯০ শতাংশ বানিজ্যিক লেনদেন ও যাতায়াত চিনের সাথেই হয়।

এদিকে চিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক ভরসা দিয়ে জানিয়েছে, মৃত্যের সংখ্যা যেমন উদ্বিগ্ন করছে তেমনই রয়েছে আশার খবর ও। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রামিত ২ হাজার ৬৫১ জন সুস্থ হয়েছেন। এমনকি তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে।