মিজানুর রহমান আজহারী | মিজানুর রহমান আজহারী ওয়াজ | মিজানুর রহমান আজহারী কে?

মিজানুর রহমান আজহারী | মিজানুর রহমান আজহারী ওয়াজ |

বর্তমান সময়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্য অন্যতম একজন স্কলার হলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মিজানুর রহমান আজহারী ।  জ্ঞান সমৃদ্ধ গবেষনামূলক বক্তৃতায় দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন তিনি।

প্রকৃত নাম ও উপাধি :
প্রকৃত নাম মিজানুর রহমান। আজহারী তাঁর উপ-নাম। তিনি মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি পান তাই তাঁর নামের শেষে ‘আজহারী’ লেখা হয়। আল আজহার ইউনিভার্সিটি থেকে তাঁকে এই ‘আজহারী’ উপাধি দেওয়া হয়।

জন্ম ও বংশ পরিচয় :
মিজানুর রহমান আজহারী ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে। মিজানুর রহমান আজহারী -র বাবা একজন মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহবধূ। বর্তমানে মিজানুর রহমান আজহারীর বয়স ২৯ বছর।

মিজানুর রহমান আজহারী | মিজানুর রহমান আজহারী ওয়াজ |

শারীরিক গঠন :
মিজানুর রহমান আজহারী -র উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ও ওজন ৬৫ কেজি‌। মিজানুর রহমান আজহারীর গায়ের রং ফর্সা, চুল ও চোখের রঙ কালো।

ব্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ :
মিজানুর রহমান আজহারী -র শখ হল বই পড়া, ভ্রমন করা ও কথা বলা বা বক্তৃতা দেওয়া। মিজানুর রহমান আজহারী -র পছন্দের খাবার হল ভাত, বিরিয়ানী ও অ্যারাবিয়ান খাবার। মিজানুর রহমান আজহারী -র পছন্দের রং হল নীল, কালো, সাদা এবং হলুদ।

বৈবাহিক জীবন :
মিজানুর রহমান আজহারী ২০১৪ সালের ২৯ শে জানুয়ারী বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁর দুটি কন্যাসন্তান আছে। মিজানুর রহমান  তাঁর স্ত্রীর নাম প্রকাশ্যে আনেনি।

 

পারিবারিক জীবন :
বর্তমানে মা, বাবা , একটি ভাই এবং দুই কন্যা সন্তানসহ স্ত্রীকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী এর পরিবার।

শিক্ষাজীবন :
মিজানুর রহমান আজহারী ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিশর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক হওয়ার জন্য মিশরে যান। সেখান থেকে “ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স” থেকে ২০১২ সালে ৮০% সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রাপ্ত হন।   এরপর মিজানুর রহমান মিশরে পাঁচ বছর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া যান। সেখানে গার্ডেন অব নলেজ খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কোরআন অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। পোস্ট-গ্রাজুয়েশনে মিজানুর রহমান আজহারীর সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৮২ ছিল।

গবেষণা :

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে মিজানুর রহমান মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৬ সালের মধ্যে এমফিলও শেষ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘Humam embryology in the Holy Quraan: A comparative Analysis between Tantawi Jawhari & Zagloul Najjar’s interpretation’ তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন মিজানুর রহমান। ‘Human behavioral characteristics in the Holy Quraan and analytic study’এর ওপর পিএইচডি গবেষণা করছেন মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের এমফিল এবং পিএইচডির মাধ্যম ছিল ইংরেজি। এছাড়া IELTS পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে over all 7.5 out of 9 band scoreএবং স্পিকিং সেকশনেও 7.5 band score অর্জন করেন।

 

কর্মজীবন ও উপার্জন :
মিজানুর রহমান টেলিভিশনে ইসলামিক গান গেয়ে প্রথম তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে মিজানুর রহমানেরএকটি ফেসবুক আইডি ও একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে।     ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন না। মাহফিল কতৃপক্ষ খুশি হয়ে মিজানুর রহমানকে কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার টাকা হাদিয়া হিসেবে দিয়ে থাকে, তাঁর কোনো চাহিদা নেই। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় থাকেন তাঁর পিএইচডির জন্য। সময় পেলে তাফসির মাহফিল করেন। এছাড়া মিজানুর রহমান বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করছেন।

জনপ্রিয়তা :
বর্তমান সময়ে মিজানুর রহমান  কে যুবক- তরুনদের আইডল বলা যেতে পারে। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও তিনি নিজেকে যেভাবে আপডেট রাখেন ও যে কোনো বিষয়কে যেভাবে স্মার্টলি উপস্থাপন করেন সেটাই যুবকদের প্রধান আকর্ষনের জায়গা। মিজানুর রহমানের তাফসির মাহফিলে যুবকদের স্রোত দেখা যায়। খুব অল্প সময়ে সুললিত কণ্ঠে কুরআন-হাদিসের সহজ-সাবলীল আলোচনা করে অসংখ্য মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন মিজানুর রহমান । তাঁর গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ, যার ফলে বিভিন্ন দেশের , বিভিন্ন ভাষার মানুষ তার আলোচনায় মুগ্ধ। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন।

পুরস্কার :
১) মিজানুর রহমান আজহারী ২০০৬ সালে বাংলাদেশে স্কলারশিপ অফ ডিস্টিনেশন, দেশের শীর্ষ মেধা তালিকায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তি পেয়েছেন।

২) ২০০৭ সালে মিজানুর রহমান ধর্ম মন্ত্রকের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে আল আজহার বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম পদ অর্জন করেন।

৩) ২০০৯ সালে মিজানুর রহমান সুইডেন-বাংলাদেশ ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অনুদান পান।

৪) মিজানুর রহমান  ২০০৮-২০১২ পূর্ণ স্নাতক বৃত্তি পান মিশরের কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

স্মরনীয় মুহূর্ত :
২০১০ সালে মিজানুর রহমান  ইসলামি গান নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে মিজানুর রহমান  তাঁর বক্তৃতা- আলোচনায় বিখ্যাত হন। ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে মিজানুর রহমানের প্রচুর পরিমানে অনুরাগী তৈরি হয়। ২০১৮ তে মিজানুর রহমান আজহারী বিভিন্ন ন্যাশনাল পত্রিকার প্রথম পাতায় স্থান পান।

মিজানুর রহমানের অরিজিনাল ফেসবুক পেজের লিংক:  https://fb.me/mizanurrahmanazhariofficial/