পোশাক খুলে ঋতুস্রাব হয়েছে কিনা তার প্রমাণ দিতে হল কলেজের ছাত্রীদের!

ঋতুস্রাব। খুবই পরিচিত একটি শব্দ। যা নিয়মিত না ঘটলে কোন মেয়ে মা হতে পারে না । হয়তো গড়ে উঠতো না এই মানব সভ্যতা, যদি না মায়ের হতো ঋতুস্রাব। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক নিয়োমে ঘটা ছোট্ট ইস্যু নিয়ে বরাবর মেয়েদের মেনে চলতে হয়েছে নানান বিধি নিষেধ। মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়েছে বহু মেয়ে। তা বলে এ কালে ও? ঋতুস্রাব চলাকালীন থাকা চলবে না কলেজ হস্টেলে। এই আজব নিয়মে চরম বর্বরতার ফাদে পড়তে হল ছাত্রীদের। অন্তর্বাস খুলে প্রমাণ দিতে হল যে ঋতুস্রাব চলছে না। কি কুচকোলো ভ্রু? কারোর হয়তো কুচকোলো, কিন্তু আমাদের মধ্যেই হয়তো কেউ আবার এই অবদি পড়ে, খুজছেন সেই ছবি বা ভিডিও। যে সময়ে নারীর সম্মান নিয়ে এতো বড় বড় কথা সবার মুখে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এমনই কুরুচিপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হল গুজরাটের ভূজের একটি গার্লস ইনস্টিটিউটের ছাত্রীরা।

 

গুজরাটের একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় পরিচালিত এই কলেজের নাম, শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউট। ওই কলেজের নিয়ম অনুযায়ী, ঋতুস্রাব চলাকালীন কোনো ছাত্রী হস্টেলে বাস করতে পারবে না। নিয়মভঙ্গ করে কেউ হস্টেলে রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য, ছাত্রীদের আলাদা করে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে তাঁদের অন্তর্বাস খুলে দেখা হল। কলেজ কতৃপক্ষের দ্বারাই এমন ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর অনুযায়ী মোট ৬৮ জন ছাত্রীকে এই আজব নিয়মের বলি হতে হয়েছে। গত সপ্তাহের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায়, নিন্দায় সরব হয়েছেন সবাই। কলেজটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন ছাত্রীরা। তাদের দাবি অনুযায়ী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এক ছাত্রী জানান, “আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শ্রদ্ধা করি, তবে যা ঘটেছে তা ঠিক নয়। কলেজ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে কলেজ প্রশাসন তাঁদের উপর প্রতিবাদ বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্যে চাপ দিচ্ছে। ওই ছাত্রী বলেন, “কলেজের অধ্যক্ষ এবং আরও কয়েকজন আমাদের ফোন করেছেন এবং আমাদের ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছেন। ওরা আমাদের লিখিতভাবে জানাতে বলছেন যে এখানকার পরিস্থিতি সব ঠিক আছে। কিন্তু আমরা চাই এই ঘটনায় কলেজ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি ছাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চাইতে হবে কলেজ প্রসাশনকে।”

 

সূত্রের খবর অনুযায়ী, স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায় চালিত কলেজের ওই হস্টেলের নিয়ম হল, ঋতুস্রাব চলাকালীন ছাত্রী দের বেসমেন্ট অঞ্চলে একটি আলাদা জায়গায় থাকতে হবে। এবং রান্নাঘর ও উপাসনা স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘটনার দিন হস্টেলে একটি ব্যবহ্রত স্যানিটারি প্যাড পাওয়া যায়। তারপরেই হস্টেল প্রসাশনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে হস্টেলে এমন কেউ আছে যার বর্তমানে ঋতুস্রাব চলছে। এই সন্দেহের বসেই ঐ ঘটনা ঘটায় তারা। কলেজ হস্টেলের ওই আজব নিয়ম কেউ ভঙ্গ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই ছাত্রী দের পোশাক খুলে পরীক্ষা করে তাঁরা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কলেজের ডিন দর্শনা ঢোলাকিয়া। এদিকে এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। মহিলা কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গুজরাটের ভূজ জেলায় অবস্থিত ওই কলেজটিতে তদন্ত দল পাঠাবেন তারা। শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউট এর এই ঘৃণ্য ঘটনায় দেশ জুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়।