‘সমর নায়ক’, মিশরের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক প্রয়াত

প্রয়াত মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। সুত্রের খবর অনুযায়ী, মিশরের রাজধানী কায়রোর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। হোসনি মুবারক ১৯২৮ সালে নীল নদের তীরে একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁকে ‘সামরিক নেতা ও সমর নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়৷

 

১৯৮১ সালে মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত খুন হওয়ার পরে মিশরের রাষ্ট্রপতি পদে বসেন মোবারক। ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন শান্তিচুক্তিতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই মোবারকের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে কায়রোর রাজপথে নেমে আসেন লক্ষ-লক্ষ মানুষ। গণআন্দোলন রুখতে প্রথমে সেনাবাহিনীকে গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে মোবারকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। শেষপর্যন্ত গণআন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি। ১৮ দিনের মাথায় ২০১১ সালে পদত্যাগ করেন তিনি।

 

তিনি একটি জটিল উত্তরাধিকার রেখে গেছেন কারন তাঁর শাসনের আংশিক বৈশিষ্ট্য ছিল দুর্নীতি, পুলিশ, বর্বরতা রাজনৈতিক দমন। জানা গিয়েছে যে ২০২০ সালের প্রথম থেকেই অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মুবারক। পরে জানুয়ারির শেষ দিকে একটি অস্ত্রপচার করা হয় তাঁর শরীরে। এরপর থেকে তাঁকে হাসপাতালেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়। জানা যায়, মিশরের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, বায়ুসেনায় ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে মিশরের বায়ুসেনাতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে পদোন্নতি হতে থাকে তাঁর। পরে ১৯৭২ সালে বায়ুসেনা প্রধান হন হোসনি মুবারক।

এরপর ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আনওয়ার সাদাতের অধীনে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলান তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালের দেশের প্রেসিডেন্ট পদে বসেন। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর সেই পদে বহাল থাকেন তিনি। পরবর্তী কালে ক্ষমতা ছাড়ার পরপরই বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের হতে থাকে মিশরের আদালতে। সেই ভিত্তিতে তাকে তোলা হয় আদালতে। তাঁকে করতে হয় জেল যাপনও। ২০১৩ সালে মিশরে ফের সেনা অভ্যুত্থান হয়। এরপর সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় হোসনি মুবারক কে। ২০১৭ সালে জেল থেকে মুক্তি পান তিনি।