ফুরফুরা শরীফে লক্ষ্য লক্ষ্য ভক্তের উপস্থিতিতে এবং তাদের চোখের জলে শেষ বিদায় পীর কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী সাহেবের ।

বেতার বার্তা নিউজ ডেক্স ফুরফুরা,হুগলী : ফুরফুরা অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ পীর আল্লামা কলিমুল্লাহ সিদ্দিকী (রহ.) ইন্তেকাল করলেন (ইন্না লিল্লাহি… …)। ৭ সোমবার রাত ১-৩০টা নাগাদ ফুরফুরা দরবার শরীফের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি রেখে গেছেন দুই পুত্র, চার কন্যা, স্ত্রী,ভাইবোন-সহ অগণিত ভক্ত-মুরিদ। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ২টায় ফুরফুরা দরবার শরীফে মরহুমের নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।তিনি ১৯৪১ সালে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ইসলামী তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেন । মরহুম পীর সাহেব ধর্ম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবাংলা, বাংলাদেশ, অসমের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মক্তব,মাদ্রাসা,বিদ্যালয়,মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায় বাংলার ছেলে-মেয়েরা কীভাবে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। দেশ তথা রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরির ক্ষেত্রে মরহুম পীর সাহেব সর্বদা তার ভক্তদের অনুপ্রাণিত করতেন। মরহুম পীর কলিমুল্লা সিদ্দিকী প্রচারের আড়ালে থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে অসহায়,দরিদ্র,অনাথ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। , তবে কোনোভাবেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি । বা রাজনীতির কথাবার্তা তাঁর মুখে শোনা যায়নি । তিনি ছবি তোলার বিরোধী ছিলেন

 

বিলাসিতার জীবনযাপনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অতি সাধারণ ভাবে তাঁর জীবনের ৭৯টা বছর অতিক্রম করেছেন। মরহুমের আন্তরিকতা, বিনয়ী মনোভাব ও সহজ সরল আতিথেয়তা সব ধর্মের মানুষকে আকৃষ্ট করত। তাঁর মৃত্যুসংবাদ শোনার পর অগণিত ভক্ত-মুরিদ গভীর শোকে নিমজ্জিত হন।

মরহুমের জানাযায় অংশ নিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাজারে হাজারে ভক্ত-মুরিদ ফুরফুরা দরবার শরীফের অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। তবে দরবার শরীফের তরফে আহ্বান জানানো হয় যে তারা যেন সকলেই করোনাজনিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারি নির্দেশ মেনে চলেন। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার নির্ধারিত সময়ে লাখো ধর্মপ্রাণমানুষের উপস্থিতিতে তিনার জানাজা সম্পন্ন হয় । শিয়াখালা রাস্তা উজল পুকুরের দিক থেকে অপরদিকে ধনপোতা মাদ্রাসার কাছ পর্যন্ত লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো । লাখো মানুষের সমাবেত ভক্তের কান্নাবিজারিত শেষ দোয়ায় মাধ্যমে জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয় । জানাযা নামাযের পরে ভক্ত অনুগামী গণের অনুরোধে আরো কিছুক্ষন মরদেহ সহিত রাখা হয় ভক্তগণ যাতে শেষ বারের মত একবার দেখতে পারে । ফুরফুরা শরীফ চত্বরে সমস্ত ময়দান, দালান ,রাস্তা ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায় ।

ফুরফুরা শরীফের পীর আল্লামা কালিমুল্লাহ সিদ্দিকী (রহ.)-এঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক শোকবার্তায় জানান” বাংলার মানুষ একজন গুণী মানুষকে হারিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি শোকাহত। তাঁর পরিবার ও ভক্ত-মুরিদদের সমবেদনা জানাই “। ফুরফুরার পীর সাহেবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বাম পরিষদীয় দলের নেতা ড. সুজন চক্রবর্তী সহ স্থানীয় বিধায়ক ও অঞ্চল প্রশাসনের তরফেও মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। সমস্ত সংখ্যালঘু নেতারা শোক প্রকাশ করেন । এছাড়াও বর্তমান ফুরফুরা শরীফের সমস্ত পীরজাদা গন শোক প্রকাশ করে বলেন আমরা “আমাদের একজন অভিভাবককে হারালাম” । বাংলার সংখ্যালঘু সমাজ একজন বিজ্ঞ– দিকপাল মানুষকে হারাল ।