হথরসে নির্যাতিতার গ্রাম ঘিরে যোগীর পুলিশ প্রশাসনের তান্ডব , গ্রামে ঢুকেতে বাধা সংবাদমাধ্যম সহ রাজনৈতিক নেতাদের

বেতার বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক : নুর মোহাম্মদ খান  রিপোর্ট উত্তরপ্রদেশ হথরথ ( উত্তরপ্রদেশ ) গত দুদিন ধরে আইনের নামে যা চলছে ভারতবর্ষের ইতিহাসের লজ্জার । যদিও পুলিশের ভাষায় তার ধর্ষণ হয়নি । কিন্ত ধর্ষণের চেষ্টা তো হয়েছে ! না তাও হয়নি । মেয়েটিকে তো মেরে ফেলা হয়েছে । মেরে ফেলার আগে তার জিব কেটে নেওয়া হয়েছে ! এটা কী মিথ্যা ? না হতেই পারে না । সীতার লাশ তার পরিবারকে দেখতে দেওয়া হয়নি , এটা কি মিথ্যা ? না , এটা সত্য । দেশের সংবিধানে কী বলা আছে মা-বাবাকে বাদ দিয়ে পুলিশ জোর করে কোনো মেয়ের লাশ পুড়িয়ে দিতে পারে ? তা তো নেই । তাহলে কেন যোগী প্রশাসন এই কাজ করল ? এই কেন কোনো উত্তর নেই। তাই গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই সীতা বাল্মীকির গ্রাম যোগী প্রশাসনের দখলে ।

উত্তরপ্রদেশের হাথরস থানা এলাকায় দলিত কন্যার উপরে অত্যাচারের ‘গ্রাউন্ড জ়িরো’ বুল গড়হী গ্রামটিকে আজ রাতারাতি দুর্গ বানিয়ে ফেলা হল। সংবাদমাধ্যম দূরস্থান, উপর থেকে নির্দেশ, ‘বাইরের মশামাছিও যেন ব্যারিকেড গলে ঢুকে পড়তে না পারে এই গ্রামে’।‘চুপ! তদন্ত চলছে।’— সকাল থেকে এখনো পর্যন্ত ঢুকতে দেয়া হয়নি কোন সংবাদমাধ্যমকে ।

রাম রাজ্যে নয় ঘটনাটি যোগীর রাজ্যে সংবাদমাধ্যমকে এই মর্মেই শাসিয়ে গেল যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। যে সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে ঢুকতে গিয়েছেন, তাঁদেরও লাল চোখ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

মায়াবতীর কটাক্ষ,। করে বলেন ‘‘যোগীকে গোরক্ষনাথের মঠে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হোক। না হলে অযোধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদে কোনও দক্ষ ব্যক্তি দরকার।’’ যোগীকে নিশানা করে প্রিয়ঙ্কার মন্তব্য, ‘‘নিজেদের যারা হিন্দু ধর্মের রক্ষাকর্তা বলে, তারাই একজন বাবাকে মেয়ের চিতাও জ্বালাতে দেয়নি!’’

 

 

আজ সকাল থেকে হাথররের বুলগড়ী গ্রামে পুলিস-প্রশাসন হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিল করোনার গল্প! গ্রামের ভিতরে প্রহরারত তিন পুলিশ-কর্মীর না কি করোনা ধরা পড়েছে। সেই জন্যই না কি গোটা গ্রাম ‘কন্টেনমেন্ট জ়োন’-এ। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করা যাবে না।

‘করোনার জের’— এই শব্দকে বর করেই আজ লখনউ হাইওয়ে থেকে বাঁ দিকে মোড় নেওয়া মাত্রই দেখা গেল গোটা এলাকা পুলিশে ছয়লাপ। যত গ্রামের দিতে এগোনো যাচ্ছে, ততই বাড়ছে পুলিশের সংখ্যা। ব্যারিকেডের ঠিক পাশেই গলা ফাটিয়ে ধর্নায় অখিলেশ যাদবের দলের মাঝারি মাপের নেতা-কর্মীরা ।

দিল্লির নির্ভয়া-র পরিবারের আইনজীবী সীমা সমৃদ্ধি কুশওয়াহা এ দিন হাথরসের দলিত পরিবারকে আইনি সাহায্য করতে চেয়ে গ্রামে ঢুকতে গিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রামে ঢুকতে না পেরে পুলিশের সঙ্গে ঝাঁঝালো তর্ক জুড়লেন। পুলিশ-কর্মীদের চড়া সুরে চিৎকার করে বললেন, ‘‘আমাকে আটকানোর অধিকার আপনাদের নেই। যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশই এ সব হচ্ছে।’’ তার পরেও প্রবেশের ছাড়পত্র মিলল না।

আইনজীবীকে ঢুকতে দেওয়া হল না , করোনার কারণে । এই করোনা কোথায় থাকে যখন রাম মন্দিরের শিলান্যাস হয়েছিল ? তা যোগীর জানা নেই । প্রিয়াঙ্কা-রাহুলকে গলাধাক্কা দিয়ে যোগীর পুলিশ আটকে দিতে পারে , মায়াবতীকে সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে ‍বসিয়ে দিতে পারে যোগী প্রশাসন । কিন্ত সাধারণ মানুষ যেদিন জাগবে সেদিন কোনো ভয় আর কাজ করবে না যোগী-মোদীর । সেদিন আসতে খুব বেশি দেরি নেই ।

এ দিন গ্রামে ঢোকার প্রায় এক কিমি দূরেই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে আটকে দেয় পুলিশ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রতিমা মণ্ডল ও মমতা ঠাকুর।
ওই দিন হাথরসের পথে পা বাড়াতেই রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার কনভয় আটকে দেয় পুলিশ। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ হাইওয়ের উপরেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। কারণ, আগে থেকেই সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কনভয় আটকে দেওয়ায় নাছোড় রাহুল-প্রিয়ঙ্কা পায়ে হেঁটে নির্যাতিতার বাড়ির দিকে এগোন তাঁরা।

জানা যায়, পায়ে হেঁটে এগোনোর চেষ্টা করলে ফের রাহুল-প্রিয়ঙ্কাকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। এর পরই শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি। ক্রমে ধস্তাধস্তি। ঘটনায় প্রকাশ, পুলিশ রাহুলকে বলে, “১৪৪ ধারা জারি রয়েছে”। পাল্টা রাহুল পুলিশকে বলেন, “আপনারা ১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন”।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশের হাতে আক্রান্ত রাহুল গান্ধী

সংবাদমাধ্যমের কাছে রাহুল বলেন, তাঁর উপর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। তাঁকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। জোর