টানা ১৪ মাস বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ৩৭০ ধারা বিরুদ্ধে ফের হুংকার দিলেন মেহবুবা মুফতি

বেতার বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ১৪ মাস আট দিন বন্দী থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ম‍ুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি সুপ্রিমো মেহবুবা মুফতি। মঙ্গলবার রাতে মেহবুবাকে ‘গৃহবন্দি’ অবস্থা থেকে মুক্তি দেয় জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। গতবছর ৫ আগস্ট আটক করা হয়েছিল মেহবুবাকে । এই দিনই জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদী সরকার ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছিলঃ ” আর কতদিন মেহবুবা মুফতিকে বন্দি করে রাখা হবে? ” শুধু তাই নয়, মেহবুবার মুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আদালত কেন্দ্র ও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে দু’সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল।

আদালত বলেছিল, মেহবুবাকে রেহাই দেওয়া হবে নাকি তাঁর বন্দিদশা আরও এক বছর বাড়ানো হবে তা নিয়ে দু’সপ্তাহর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্র ও উপত্যকা প্রশাসনকে। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া দু’সপ্তাহর সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই মেহবুবাকে মুক্তি দিল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ।

মেহবুবার রেহাই প্রসঙ্গে তাঁর মেয়ে ইলতিজা মুফতি ট‍ুইট করেন, মায়ের বেআইনি আটক করে রাখার সময়সীমা শেষপর্যন্ত সমাপ্ত হল। মুক্তি পাওয়ার পরেই মেহবুবা ফের হুংকার দিয়েছেন । তিনি এক অডিও বার্তায় বলেছেন ,‘‘কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার বেআইনি। এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবেই।উল্লেখ্য, গতবছর কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার করার ঠিক আগে আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লা-সহ একাধিক স্থানীয় নেতানেত্রীকে আটক করে সরকার ।

পরে তাঁদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়। মেহেবুবা আরও বলেছেন,”এক বছর পর বেআইনি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে খানিকটা স্বস্তি পেলাম। এতদিন ওই কালো দিনে নেওয়া কালো সিদ্ধান্ত (৩৭০ ধারা বাতিল) সবসময় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আর আমার বিশ্বাস কাশ্মীরের সব মানুষেরই সেটা মনে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে যাঁরা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জানাই।

আল্লাহ্ সবাইকে রক্ষা করুন। তিনি আরো বলেনঃ ” সরকারের এই অত্যাচার বেশিরভাগ মানুষই সহ্য করবে না। কাশ্মীরের মানুষ একত্রিত হয়ে এই লড়াইয়ে শামিল হবে। এই একটা ইস্যুর জন্য হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতেই হবে।”