ফ্রান্সের স্কুলে হযরত মহম্মোদ ( সঃ ) ব্যঙ্গচিত্র, ফরাসি খাবার বয়কট আরব সংস্থাগুলির 

বেতার বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ  ফ্রান্সের স্কুলে মহম্মোদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যঙ্গচিত্র দেখানোর প্রতিবাদে ফরাসি খাবার বয়কট করার ডাক দিল আরব সংস্থাগুলি। শুধু তাই নয়, কুয়েত ও সৌদি আরবের একাধিক শপিং মলের তাক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ফ্রান্সের খাবার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং ‘বয়কট ফ্রেঞ্চ ফুড’।

ফ্রান্সের উৎপাদিত পণ্য-সামগ্রীর বয়কটের তালিকা

গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয় । বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে , হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর । তিনি চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে । নিহত ওই শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন । ‘ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের মহানবী মহম্মোদ (সা.) – এর কার্টুন দেখিয়ে ছিলেন । তারপর তাকে হত্যা করা হয় ।

 

এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পুলিশ দেশটির অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায় ।

 

ওই ঘটনাকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রূপ বলে তোপ দেগেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তারপর থেকেই আসরে নেমে পরে মুসলিম দেশগুলি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘মুসলিম ভীতি’ জাগিয়ে তোলার অভিযোগ এনে তুমুল হইচই শুরু করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোগান।

এই বিষয়ে জারি করা এক বিবৃতিতে ফরাসি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, মধ্যেপ্রচের বেশ কয়েকটি দেশে ফরাসি পণ্য বিশেষ করে খবর বয়কট করার দাবি উঠছে । কার্টুন বিতর্কে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করা হচ্ছে সেখানে । ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ফরাসি পণ্য বয়কট করার এই ডাক সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এদিকে, মুসলিম দের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে ফ্রান্স । ওই হামলার পর রাজধানী প্যারিস-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সন্দেহভাজন মুসলিম মসজিদ মাদ্রাসায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। খবরের সত্যতা স্বীকার করেন ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন । তিনি জানান, প্যারিস কাণ্ডের পর অন্তত নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়েছে । অভিযোগ ৮০টি মিথ্যা মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কয়েকদিন আগেই মুসলিম দের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি মুখে ফ্রান্সকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ বললেও তার ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হয়েছে । হয়তো দেশে মুসলিম উত্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা করেছিলেন তিনি। তারপরই তাঁর বয়ান নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক। অযথা ‘মুসলিম ভীতি’ ছড়াচ্ছেন ম্যাক্রোঁ বলেও অভিযোগ করেন তথাকথিত ধর্মনীরপেক্ষরা।

Comments