পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার নিয়োগের জটিলতা

            সেখ রিয়াজ উদ্দিন ( আরামবাগ )

শিক্ষক ( ভূগোল ) গুরুদাসপুর  হাই মাদ্রাসা  , মুর্শিদাবাদ  ।

বেতার বার্তাঃ অন্য রাজ্য গুলোতে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে যে মেঘ তৈরী হয়েছে ,আমাদের রাজ্যে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা  । ১৯৯৭ সাল থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন শুরু হলে সেখান থেকেই রাজ্যের সরকারি পোষিত মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে আসছিলো । কিন্তু বিগত বাম সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও শিক্ষকের মধ্যে অনেক আধুনিকতা নিয়ে আসেন । কিন্তু একটা কথা বলে রাখি মাদ্রাসা নিয়ে যে অপপ্রচার তা কিন্তু সরকার পোষিত মাদ্রাসা গুলোকে নিয়ে নয়,সেগুলো কিন্তু বেসরকারি খারেজী মাদ্রাসা  সেই মাদ্রাসা গুলির আমূল পরিবর্তন করে মুসলিম সমাজের একটা বিরাট অংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও আধুনিক মাদ্রাসা গুলোর সৃষ্টি করা হয় । নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতি হীন ,বর্ণহীন ,অঞ্চলহীন করে বাম সরকার মাদ্রাসা নিয়োগে আলাদা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ চালু করে । আর তার মধ্যে দিয়ে ২০১১  সাল অবধি নিয়োগের সব ঠিক ছিল ।

কিন্তু রাজনীতির পালা বদলের পরে শাসক দল নতুন করে ১০০০০ মাদ্রাসা চালু করা হবে বলে শুরু করে খুব উদ্যোগ ।  আজ সে কথা থাক,অন্য দিকে যে সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসা গুলো ছিল সেগুলো নিয়োগ ক্ষমতা কার হাতে থাকবে কমিশন, না কমিটি তা নিয়ে শুরু হয় আইনের লড়াই । হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট করে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কমিশনকে জিতিয়ে নিয়ে আসেন মাদ্রাসা ফোরাম নামের অরাজনৈতিক সংগঠন । বর্তমানে তবুও নিয়োগ ও ট্রান্সফার সক্রিয় করা যায়নি তার কারণ কারো জানা নেই ।

 

অন্য দিকে স্কুল গুলোতে ট্রান্সফারের অনলাইন মাধ্যমে আধুনিক ব্যবস্থা চালু হলেও মাদ্রাসা তার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত । অনেক শুন্য পদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ নেই দীর্ঘ অনেক বছর । যে সকল শিক্ষক সুপ্রিম কোর্টের আদেশে নিয়োগ পেয়েছেন তাদেরও স্থায়ীকরণের সমস্যা l রাজ্যে স্কুল গুলোর তুলনায় মাদ্রাসায় ছাত্র ছাত্রী কম থাকলেও তারা কিন্তু অনেক পিছিয়ে পড়া সমাজের সংখ্যালঘু ও তফসিলীজাতি ও উপ জাতি দের প্রতিনিধি যাদের কাছে শিক্ষার প্রজনীয়তা অনেক বেশি । তাদের সমস্যা নিয়ে কি ভাবার প্রয়োজন নেই ? মাদ্রাসার শিক্ষকরা যোগ্যতাই অন্য শিক্ষকদের তুলনায় কোনো অংশে কম নয় ।

তবে কি তারা যোগ্যতা নিয়ে পিছিয়ে পড়া ছাত্র ছাত্রীদের তুলে আনতে গিয়ে ভুল করেছে ,তাই ট্রান্সফারের মতো আধুনিক সুবিধা গুলো শিক্ষক রা পেলেও মাদ্রাসা শিক্ষকরা পাবেন না । আর কবে পুরানো শিক্ষার ও আধুনিক শিক্ষার লড়াই শেষ হয়ে সরকার পোষিত মাদ্রাসা গুলো বৰ্তমান আধুনিক শিক্ষার সাথে মাথা তুলে পাশাপাশি চলতে শিখবে সে দিনের অপেক্ষায় থাকলাম ।

Comments