নতুন করে আর শিক্ষক নিয়োগ হবে না বললেনঃ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী

বেতার বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রাথমিকে টেটে পাশ করা এক যুবকের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ফোনে কথাবার্তা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য জুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে । সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে শিক্ষামন্ত্রী ও টেট (TET) উর্ত্তীর্ণ এক পরীক্ষার্থীর কথোপকথনের একটা অডিও ক্লিপ । তা থেকে জানা যায়, ফোনের ওপারে থাকা যুবক টেট পাসের পর ট্রেনিংও করেছেন, কিন্তু এখনও তাঁর নিয়োগ হয়নি। তাই তার প্রশ্ন কবে নিয়োগপত্র পাবেন তিনি। এপার থেকে উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানাচ্ছেন , করোনার কারণে প্রায় ১ বছর ধরে স্কুল বন্ধ। তা সত্ত্বেও শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ফলে এই পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগের কোনও সম্ভাবনা নেই। চাকুরিপ্রার্থী ওই যুবক একের পর এক নিজের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নবাণে শিক্ষামন্ত্রীকে বিদ্ধ করলে মেজাজ হারাতেও শোনা যায় তাঁকে । প্রকাশ করেন বিরক্তিও । কেন ট্রেনিং করলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যুবক এক সংবাদ মাধ্যমের কথা উল্লেখ করে বলেন প্রাথমিকের নিয়োগ ব্যাপারে খবর শুনে তিনি ট্রেনিং করেছেন । শিক্ষা মন্ত্রী যুবককে ফোনে বলেন ” আমি কি আপনাকে ট্রেনিং করতে বলেছিলাম ? ”

শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমের নাম উল্লেখ করে বলেন “ওই সংবাদমাধ্যমই দেখুন ” । ফোনে কথা-বার্তা‌ অডিও ক্লিপ শুনে বোঝা যায় রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কত শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সে পরিসংখ্যান শিক্ষামন্ত্রী ঠিক জানা নেই । শিক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান নিয়ে যুবকের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বিতর্ক তৈরি হয় । তিনি যুবককে ধমকের সুরে বলেনঃ “শিক্ষক আছে ছাত্র নাই এরকম কত স্কুল আছে জানেন ? “শিক্ষামন্ত্রী যুবককে বলেনঃ “কোন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারছেন সেটাও তো আপনাদের অ্যাডিশনাল লাভ ।” শেষে কোর্টের দোহাই দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন ।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ক্লিপঃ

 

এই ভিডিওর মধ্যে অডিও ক্লিপের সত্যতা “বেতার বার্তা” যাচাই করেনি ।

এই অডিও  ক্লিপকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে । একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীর মেজাজ হারানো নিয়ে নাগরিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।

প্রসঙ্গত মমতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াই বিঘ্ন ঘটেছে । তৃণমূল সরকারের ৯ বৎসর ক্ষমতায় প্রাথমিকে নিয়োগ হয়েছে মাত্র দুইবার প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে হয়েছে সেই নিয়োগ গুলিতেও অস্বচ্ছতা অভিযোগ উঠেছে বারবার টেট কেলেঙ্কারি  অভিযোগ পথে নেমেছিল  রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী সহ বিরোধী দলগুলো ।

উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ হয়েছে মাত্র একবার ২০১৩ সালের পর থেকে সাত বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে । আপার প্রাইমারি নিয়োগ প্রক্রিয়াই অস্বচ্ছতা দাবি তুলে অনেক আন্দোলন হয়েছে শেষে  হাইকোর্টে মামলা চলছে  । দীর্ঘদিন আপার প্রাইমারি মামলার সুরাহা হয়নি । যার ফলে আটকে গেছে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া । আপার প্রাইমারি নিয়োগ নিয়ে হতাশ শিক্ষিত বেকার সহ রাজ্যের সাধারণ মানুষ ।

এ রাজ্য মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের  নিয়োগ  হয়েছে দুইবার  এ রাজ্যে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন নিয়োগ  জটিলতা দীর্ঘদিনের । সুপ্রিম কোর্ট  কমিশনের  পক্ষে রায়ের পরেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেনি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন ।

উল্লেখ্য সার্ভিস কমিশন গুলি বাম জমানায় গঠন হওয়ার পরে  প্রতিবছরই নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হতো ।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারাটা নাকি বিশেষ পাওয়া । ” পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারাটা অ্যাডিশনাল লাভ । ”
এটাতেই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী মহল সহ বিরোধীরা ।

বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী বেচারা প্রার্থী কষ্ট করে পড়াশোনা করার পর, এত বছর অপেক্ষা করার পর, ট্রেনিং করার পর, আপনার কাছ থেকে জাস্ট কিছু জিনিস জানতে চেয়েছে, তৃণমূল সরকার TET নিয়ে কতটা দুর্নীতি করেছে সবাই জানে বা বুঝতে পারে, তাই চাকরি না দিতে পারেন, অ্যাটলিষ্ট চাকরিপ্রার্থী টির সঙ্গে ভালোভাবে কথা তো বলুন।”

Comments