নতুন বছরেও নিজেদের সেরার তালিকায় রেখেছেন কোন স্মার্টফোনগুলি

২০২০ সালের সেরা ফোন মানে এগুলো যে নতুন বছরে বাজারে আসবে তা নয়। ২০১৯ এর প্রথম বা শেষের দিকের কিছু ফোন নিঃসন্দেহে নয়া বছর বাজার কাঁপাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলোই নতুন বছরের সেরা ফোন হিসেবে প্রতাপ ছড়াবে। এখানে এমনই কিছু ফোন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

 

আইফোন ১১
আইফোন পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সবাই অপেক্ষায় থাকেন কখন নতুন আইফোন আসবে। অ্যাপল তাদের গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন আইফোন ১১। এতে রয়েছে ৬ দশমিক ১ ইঞ্চির লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে। সহজ করে বলতে গেলে, এই ডিসপ্লেতে ছবি জুম করে দেখা হলে পিক্সেল দেখা যাবে না বা ছবি ফেটে যাবে না। অ্যাপল এমনটাই দাবি করেছে। আইফোন ১১-তে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ও আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স সম্বলিত ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। পেছনের এই দুটি ক্যামেরাই ১২ মেগাপিক্সেলের। স্বল্প আলোয় ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। রাতের বেলা কিংবা কম আলোতে ছবি তোলার সময় এর নাইট মোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে।

কুইকটেক নামে আইফোন ১১-তে নতুন একটি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। সেল্ফি তোলার জন্য এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করে ৪কে ৬০ এফপিএস ভিডিও ছাড়াও স্লো মোশন ভিডিও করা যাবে।

 

গ্যালাক্সি নোট টেন প্লাস
চলতি বছরের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত ডিভাইস স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি নোট টেন প্লাস। দেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য নোট সিরিজের সর্বাধুনিক এই ফোনটি হতে পারে এ বছরের সেরা স্মার্টফোন। ডিভাইসটির পেছনে রয়েছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ। যার একটি আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেল, একটি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল, একটি টেলিফটো ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল এবং রয়েছে একটি ডেপথভিশন ক্যামেরা। এ ছাড়া সেলফি তোলার জন্য ডিভাইসটিতে রয়েছে ১০ মেগাপিক্সেলের একটি ফ্রন্ট ক্যামেরা।

স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি নোট সিরিজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের এস পেন ফিচারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এবারের গ্যালাক্সি নোট টেন প্লাসের এস পেন ফিচারে ব্লুটুথ পাওয়ার যুক্ত করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ডিভাইসটি বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এস পেন এর বাটনের মাধ্যমে ওপরে, নিচে, ডানে এবং বাঁয়ে ফ্লিক করানো যাবে। সামনের ক্যামেরা থেকে পিছনের ক্যামেরায় যাওয়া যাবে এবং স্পটিফাইতে অ্যাডভান্স মিউজিক ট্র্যাক পরিবর্তন করা যাবে। এ ছাড়াও ছবি তোলার সময় জুম ইন এবং জুম আউট করা যাবে এস পেন এর মাধ্যমে। এস পেন এর অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, এই ফিচারের মাধ্যমে সহজেই একটি নোটকে টেক্সটে রূপান্তরিত করা যায়। এর জন্য স্ক্রিন বাটনে চেপে টেক্সট এরিয়া ট্যাপ করলেই হবে। এই টেক্সটকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে নিয়ে খুব সহজেই শেয়ার করা যায়।

 

হুয়াওয়ে পি থার্টি প্রো
মোবাইল দিয়ে দূরের ছবির সৌন্দর্য ধারণের ব্যর্থ চেষ্টা অনেকেই করেছেন। দূরের দৃশ্যের সুস্পষ্ট ছবি তোলার অভূতপূর্ব সক্ষমতা নিয়ে বাজারে এসেছে হুয়াওয়ে পি ৩০ প্রো। এই মডেলটি দিয়ে জুম ইন করে তোলা ছবিতে দূরের জিনিস পরিষ্কার দেখা যায়। এ ফোনে থাকছে চারটি ক্যামেরা। হুয়াওয়ে পি থার্টি প্রো ফোনে থাকছে ৬.৪৭ ইঞ্চি এফ ডিসপ্লে।  ফোনের ডিসপ্লের নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকবে। হুয়াওয়ে পি৩০ প্রো ফোনে থাকছে ৮জিবি পর্যন্ত র‍্যাম। আর পি৩০-তে রয়েছে ৬জিবি পর্যন্ত র‍্যাম। দুটি ফোনেই থাকছে ৫১২জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ।

পি৩০ প্রো মডেলের ব্যাটারি বেশি শক্তির, ৪২০০ এমএএইচ। হুয়াওয়ে আছে চারটি ক্যামেরা। এর একটি ৪০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর, ২০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা এবং একটি টাইম অফ ফ্লাইট ক্যামেরা। আছে ডুয়াল অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশান। সেলফি তোলার জন্য হুয়াওয়ে এতে দেওয়া হয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেল সেন্সর।

 

ওয়ানপ্লাস সেভেন প্রো
কয়েক বছর ধরে ওয়ানপ্লাস একটা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। ফোনের লক খুললে, নজর কাড়বে ওয়ানপ্লাস সেভেন প্রো ফোনের ডিসপ্লে। এতে আছে কার্ভড স্ক্রিন। তবে সেটি যে খুব আলাদা, তা একেবারেই নয়। কারণ এখন বাজার চলতি বেশ কিছু ফোনে রয়েছে কার্ভড স্ক্রিন। ফোনটিকে পাশ থেকে দেখলে বাজার চলতি বাকি ফোনের তুলনায় একটু মোটা লাগতে পারে। সেটি অবশ্য ৪০০০ এমএএইচ ব্যটারির জন্য হতে পারে।

পপ-আপ সেলফি ক্যামেরার হার্ডওয়ার প্রসঙ্গে ওয়ান প্লাস  জানায়, ৩০০০ বার ক্যামেরা ওঠা নামা করলেও ক্লান্ত হবে না। তিনটি ক্যামেরা কম্বিনেশন থাকছে ফোনটিতে। সোনির উন্নতমানের সেন্সরসহ ৭পি লেন্সের ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে ওয়ানপ্লাস সেভেনে প্রো-তে। এছাড়া থাকছে ১৬ ও ৮ মেগাপিক্সলের ক্যামেরার সমন্বয়। তবে ১৬ মেগাপিক্সেল পপ-আপ ক্যামেরার সেলফি এমন কিছু আহামরি নয়। যেখানে ফোনের মূল আকর্ষণ ছিল পপ-আপ সেলফি ক্যামেরার প্রতি। তবে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের ক্যামেরাটির মান যথেষ্ট উন্নত। ১১৭ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল কভার করবে ওয়ানপ্লাস প্রো ফোনের ক্যামেরা।

তবে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার মান বাজারের চলতি নামিদামি অনেক ফোনকেই কোণঠাসা করে দেবে। জুম করলে ছবিতে থাকছে না কোনো নয়েজ। তিন ক্যামেরার কম্বিনেশনে ওয়ানপ্লাস প্রো ফোনের ক্যামেরা আপাতত সেরার তকমা পেতে পারে। সুপার ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স, কম আলোয় উন্নত মানের ছবিসহ ভিডিও তুলতে সক্ষম ওয়ান প্লাসের ক্যামেরা।