মুসলিম হয়ে দাঁড়ি রাখে শান্তি অনুভব করিঃ ইউসুফ ইউহানা

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  ইউসুফ ইউহানা বা মোহাম্মদ ইউসুফ ২৭ আগস্ট ১৯৭৪ (বয়স ৪৬) লাহোরে, পাকিস্তান জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তানের সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।     ২০০৫ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।

২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে ইউসুফের।  ৫০-এর অধিক গড়ে সাত সহস্রাধিক রান করেন যা যে কোন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বেশি।  এছাড়াও তার ২৪টি সেঞ্চুরিও রয়েছে। ২৭ বলে অর্ধ-শতক করেন যা বিশ্বের তৃতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতক।  ২০০৪ সালের বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১১ রান করেন। ডিসেম্বর,  ২০০৫ সালে লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন।  সাত মাস পর জুলাই,     ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে একই দলের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ২০২ ও ৪৮ রান করে পুণরায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন।

হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে ১৯২ ও ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে ১২৮ রান সংগ্রহ করেন। ২৮ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন।

উইসডেনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউসুফ বলেন,  ২০০৬ সালে আমি অনুশীলন বা ট্রেনিংয়ে বিশেষ কিছু করিনি।   ২০০৫ সালের শেষদিকে আমি মুসলিম হয়ে যাই এবং প্রথমবারের মতো নামাজ আদায় করি।  এরপর আমি দাঁড়ি রাখা শুরু করি এবং নিজের মধ্যে অন্যরকম শান্তি অনুভব করি।   যা আমার রাস্তায় আসা সকল চ্যালেঞ্জ জিততে অনুপ্রাণিত করে।

ইউসুফ আরো বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় আল্লাহ্‌র তরফ থেকে এমন রেকর্ড উপহার হিসেবে পেয়ছেন।  ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ১৭৮৮ রান করতে পেরেছেন। যা কি না এখনও এক বছরে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড।

ইউসুফ জানান, আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে, ২০০৬ সালের অসাধারণ পারফরম্যান্স আল্লাহ্‌র কাছ থেকে বিশেষ উপহার ছিল, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায়।  আমিতো কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের বছরের প বছর ধরে টিকে থাকা রেকর্ডটি ভাঙতে পারব।

কিন্তু আমি যেহেতু শান্ত এবং স্থিতধী ছিলাম এবং মানসিক দিক থেকে নিজের সেরা অবস্থায় ছিলাম, তাই আমার মনে হয়েছে কোনোকিছুই আমাকে থামাতে পারবে না।

Comments