আব্বাস সিদ্দিকীর দল বাম-কংগ্রেসের জোটে সামিল হলে, লাভ মমতার! বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  শিহরে বিধানসভা, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। ২০১১ নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায়নে মূলে ছিল সংখ্যালঘু ভোট। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট বাক্সে সংখ্যালঘু ভোট কিছুটা হলেও কমবে সেটা আগেই জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের এক অংশ।

ইতিমধ্যে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী দলিত, আদিবাসীদের, সংখ্যালঘুদের নিয়ে গঠন করেছেন রাজনৈতিক দল “ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট” (ISF) এবারের নির্বাচনে আইএসএফ বাম-কংগ্রেস দলের সঙ্গে জোটে লড়বে বলে আগেই জানিয়েছেন আব্বাস সিদ্দিকী। বাম-কংগ্রেসের জোটে আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফ যোগ দিলে কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসের বিপদ কি বাড়তে পারে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশ মনে করছেন, এই মহাজোট তৃণমূলের আদতে সুবিধা করে দিতে পারে।

আব্বাস সিদ্দিকি একা লড়লে বরং তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসতে পারে। মুসলিম ভোটের বিভাজন হ্রাস করবে জোট!

উন্নয়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহায়তা করবে একুশের ভোটে। অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর থাকলেও রাজ্যের উন্নয়নের চিত্রটা যে মমতার পক্ষে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, “বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফের মধ্যে মহাজোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে মুসলিম ভোটের বিভাজন হ্রাস করতে পারে। “মহাজোট হলে বাম-কংগ্রেসের হিন্দু-মুসলিম ভোট আইএসএফের সঙ্গে জোটে থাকলে হিন্দু ভোটারদের একটি অংশ বাম ও কংগ্রেসকে ভোট দিতে পিছপা হবে।

অন্যদিকে, মুসলিম ভোটের একটি অংশ, যা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আইএসএফ-এ স্থানান্তরিত হতে শুরু করেছিল, তারা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসতে পারে। তৃণমূলের পক্ষে সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজনও রোধ করবে এই জোট। বিজেপি-তৃণমূলের দ্বিচারিতার রাজনীতি ভেঙে যাবে।

আবার আর এক দল বিশ্লেষকের ব্যাখ্যা, “আইএসএফ, সিপিএম এবং কংগ্রেস হাত মেলালে বিজেপি-তৃণমূলের দ্বিচারিতার রাজনীতি ভেঙে যাবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষতি হতে পারে এই জোটের কারণে। কারণ মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ দিনাজপুরে জোটের ভোট বেড়েছে।

জোট হলে মমতা খুব বেশি লাভ করতে পারবেন না তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি তৃণমূলের পক্ষে ভোট-বিভাজন রোধ করতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে দেখে মনে হচ্ছে, জোট হলে মমতা খুব বেশি লাভ করতে পারবেন না।

তবে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে আইএসএফের জোটে এখনও জট কাটেনি। নতুন দল করেই পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি ৭০টি আসন দাবি করে বসেছেন।

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট নামে নতুন দল গড়েই তিনি বাম-কংগ্রেসের মহাজোটে সামিল হতে চেয়েছেন। বাম-কংগ্রেস জোট আব্বাস সিদ্দিকীর নতুন দলের জন্য ৭০ আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না।

অন্যদিকে আইএসএফ সুপ্রিমো আব্বাস সিদ্দিকি জানিয়েছেন, “বিজেপ অধ্যুষিত এলাকায় তিনি প্রার্থী দেবেন না।  সমীক্ষা করেই তিনি ৭০ আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” রাজনৈতিক দল গঠনের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের দাবি তুলে জনসভা করতে শুরু করেছেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী সহ দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিটি জনসভায় ভিড় বাড়ছে সাধারণমানুষের।

Comments