যুদ্ধং দেহি ইরান-আমেরিকা, নিরাপত্তা বাড়তে উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করল ভারত

মার্কিন ড্রোন হানায় ইরানি সামরিক কম্যান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানির মৃত্যুকে ঘিরে দুই দেশের সংঘাত চরম পর্যায়ে। টানটান উত্তেজনায় ফুটছে পশ্চিম এশিয়া। এরই মধ্যে কখনও ইরাকের মার্কিন সেনাঘাঁটি, কখনও বাগদাদের গ্রিন জোনে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। কোনও পক্ষ সরাসরি মুখ না-খুললেও, দু’তরফে যুদ্ধ পরিস্থিতি আঁচ করে কোমর বাঁধল ভারতীয় নৌসেনা। ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় শক্তিশালী আইএনএস ক্রিকাণ্ড যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করল ভারত। নজরদারি চলবে আকাশপথেও।

তেহরান-ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্বের জেরে নিরাপত্তার খাতিরে গত বছর ওমান উপসাগরীয় এলাকায় আইএনএস চেন্নাই ও আইএনএস সুনয়না নামে দু’টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল ভারতীয় নৌসেনা। বর্তমানে সংঘাতের এই চরম পরিস্থিতিতে ৪০০০ টন ওজনের ক্ষেপণাস্ত্রবাহী আইএনএস ত্রিকাণ্ডকেই উপসাগরীয় এলাকায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় নৌসেনা। পারস্য উপসাগর দিয়ে দিনে মোটামুটি পাঁচ থেকে আটটি অশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার যাতায়াত করে ভারতের। ট্যাঙ্কারে কপ্টার-ডেক থাকে, প্রয়োজনে যাতে সেখানে নৌবাহিনীর কপ্টার নামানো যায়, তারও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম তলওয়ার-ক্লাস ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ আইএনএস ত্রিকাণ্ড। রাশিয়ার বানানো এই যুদ্ধজাহাজ ২০১৩ সালে ভারতের নৌসেনার হাতে আসে। উপসাগরীয় এলাকার আকাশেও নজরদারি চালাবে ভারতীয় বায়ুসেনা। তার জন্য সর্বাধুনিক সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ এয়ারক্রাফ্টকে উপসাগরীয় এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

দুই দেশের চরম উত্তেজনার আবহে ইতিমধ্যেই ইরান, ইরাক, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের আকাশসীমা এড়ানোর জন্য ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে সতর্ক করেছে ডিজিসিএ। ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জরুরি কাজ না থাকলে ভারতীয় নাগরিকদের ওই এলাকায় না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক কম্যান্ডার নিহত হওয়ার জেরে এখন রীতীমতো উদ্বিগ্ন সাউথ ব্লক। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতে বছরে চার হাজার কোটি ডলার বিদেশি মুদ্রা আসে যা দেশের মোট বিদেশি মুদ্রা আমদানির অর্ধেকেরও বেশি। ওমান ও পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্রাকার হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও ভারতের যথেষ্ট নির্ভরতা রয়েছে। অশান্তি বাড়লে এই প্রণানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছে ভারত।

Comments