সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট তৃণমূলের থেকে আটকাতে! বাংলায় রমজান মাসে নির্বাচন চাইছে বিজেপি

সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট তৃণমূলের থেকে আটকাতে, বাংলায় রমজান মাসে নির্বাচন চাইছে বিজেপি।

বেতার বার্তাঃ নূর মোহাম্মদ খান, এই বৎসরের মাঝামাঝি  পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট এবার পশ্চিমবঙ্গ কে গেরুয়া করণের টার্গেট নিয়েছে ভারতীয় জনতাা পার্টি । বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে, অন্তত ৯০টি আসনে ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ভোট । ঐতিহাসিক ভাবে রাজ্যে শাসকদলের সঙ্গে মুসলিম ভোটাররা । সেই ভোটব্যাঙ্ক এখনো পর্যন্ত তৃণমূলের দখলে । তাই সেই  ভোট নষ্ট করতেই ২০২১ সালে রমযান শুরু হবে সম্ভবত ১৪ এপ্রিল । যদিও চাঁদের উপর নির্ভর করে রমযান মাস শুরু হয় একদিন কমবেশি হতে পারে ।

তা হলে ধরে নেওয়া যায়  ১লা বা ২রা বৈশাখ শুরু হবে রমযান মাস । এই রমজান মাসকে ঢাল করলে ভোটের হার কমানো যেতে পারে । বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, পুরো এপ্রিল মাসে কয়েক দফায় ভোট করতে চায় বিজেপি । পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মুসলিম মহলে সেই ভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি । তাই রাজ্য বিজেপি যানে । কিছু মুসলিম দলে থাকলেও । বেশির ভাগ মুসলিম তাদের ভোট দেবে না । পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা বেশিরভাগ যেহেতু প্রবাসে থাকে ।

রমজান মাসে ভোট হলে ভোট নিয়ে মাতামাতি করবে না । মুসলিমরা যারা বিদেশে আছেন সামনে ঈদ কে লক্ষ্য করে, তারা রমজানে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি আসবে না । মুসলিম ভোট যেহেতু বিজেপি পাবে না সেটা ধরে নিয়ে তারা চাইছে রমজান মাসে ভোট ক্রিয়া শুরু হোক পশ্চিমবঙ্গ । রমযানের প্রথম দিন নিয়ে যেহেতু মুসলিমদের মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে হয় চাঁদের উপর । তাই সেটিকে ব্যস্ততার মধ্যে রাখতে ১৪ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট করলে ফায়দা পাওয়ার আশায় থাকবে বিজেপি ।

এভাবে যদি মুসলিম প্রধান জেলা গুলিতে রমযান মাসের মধ্যে কয়েক দফার নির্বাচনের দিন ফেলা যায় তাহলে বিজেপি যে সুবিধা পাবে তা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া এক বরিষ্ঠ নেতা তার ঘনিষ্ঠ মহলে বলতে শুরু করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে ।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিও ৪৪.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছে। সেই নিরিখে তারা পশ্চিমবঙ্গে ভাল ফল করেছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে তৃণমূল ৪৪.৯ শতাংশ ভোট পেলেও সেই হার কমে গেছে লোকসভা নির্বাচনে। তাই বিজেপি চাইছে তৃণমূলের ভোটের হার আরও যেন কমে যায়। সেই ছক কষা শুরু করেছে রাজ্য  বিজেপি । তাহলেও কি সত্যিই রমযান মাসে ভোট ঘোষণা করে বিজেপি তৃণমূলের ভোটের হার কমানোর ছক কষছে, সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যে উঠতে শুরু করেছে ।

প্রসঙ্গত ভারতবর্ষে বিজেপি দ্বারা শাসিত হলেও ভারতীয় জনতা পার্টি যে মুসলিম বিদ্বেষী তা ভারতীয় রাজনীতৈ বাহুল প্রমাণিত । সারা ভারতবর্ষের একাধিক রাজ্য বিজেপি দ্বারা পরিচালিত হলেও , মোদি সরকার ভারতবর্ষে মুসলিমদের কোন বিশেষ মন্ত্রিত্ব পদে রাখেনি ।

সম্প্রতি বিহার ভোটে বিজেপির জোট সঙ্গী নিতিশ কুমার আরজেডি সরকার গড়লে সেখানে কোন মুসলিমকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়নি । ভারতীয় জনতা পার্টি একটি রাজনৈতিক দল হলেও , ধর্মীয় মেরুকরণ এর অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হয়েছে । বিজেপির রাজনৈতিক জনসভা , মিছিল-মিটিংএ ধর্মীয় স্লোগান “জয় শ্রীরাম”  বারবার উচ্চারিত হয় ।

বিগত কয়েক বছর ধরে মব লিঞ্চিং ,বা ঘর ওপাসির নামে “জয় শ্রীরাম” নাম নিয়ে মুসলমান যুবকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেছে বিজেপি কর্মীদের ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখে  “সবকা সাথ সবকা বিকাশ” বললেও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় । তার নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া ‘গোধরা কান্ড’ ,থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার পরে রাম মন্দিরের শিলান্যাস , এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি নরেন্দ্র মোদি বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য শঙ্কিত পশ্চিমবঙ্গে সহ সারা ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু মুসলিমরা ।

সম্প্রতি সিএএ থেকে এনআরসি জিগির তোলার পর থেকে , সংখ্যালঘু মুসলমানদের মনে ভীতি সঞ্চার আরো তীব্র হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৮ আসন পেয়েছে ।

অনেক সংখ্যালঘু মুসলিম নেতা বিজেপিতে যোগ দিলেও, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কোন মুসলিমকে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি ‌। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সংসদ দিলীপ ঘোষের পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের নিয়ে বারবার বিদ্বেষ মূলক হুংকার এবং কুরুচিকর বক্তব্য  , পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা শঙ্কিত । তাই  পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের প্রাপ্ত ভোটের আশা ক্ষীন ভেবেই বিজেপি এই পরিকল্পনা বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।

Comments