অস্বচ্ছতার অভিযোগে প্রাথমিক টেট নিয়োগে স্থগিতাদেশ দিল আদালত

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  বিধানসভা ভোট কে লক্ষ্য করে কয়েকদিন আগে ২০১৪ সালে আটকে থাকা প্রাথমিক টেট পাস পরীক্ষার্থীদের ইন্টারভিউ নিয়ে তড়িঘড়ি ফল প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ।

সোমবার কলকাতা আদালতে মামলার রায় দানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকারের। একাধিক বেনিয়মের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta HC)  মামলার ভিত্তিতে সোমবার চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি করেন হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। এর জেরে ইতিমধ্যেই যে শিক্ষকরা নিয়োগপত্র পেয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যত্‍ বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পুজোর দিন ১৬ হাজার ৫০০ শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগে মেধাতালিকা প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল পর্ষদ। মূলত যাঁদের প্রশিক্ষণ রয়েছে, সেই প্রার্থীরা আবেদনের যোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল।

এরপর জানুয়ারিতে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৬ তারিখ ওই মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরই তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে, এই দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকশো প্রার্থী। মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম অভিযোগ তুলেছিলেন, অস্বচ্ছ মেধাতালিকা প্রকাশ হয়েছে। তাছাড়া ২০১৪-র সফল প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মেই হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছিল।

ইতিমধ্যে যদিও সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পরই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বহু প্রার্থীই। সোমবার হাই কোর্টের এই স্থগিতাদেশ জারির পর অনিশ্চয়তার মুখে তাঁদের ভবিষ্যতও। রাজ্যের তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আচমকা এই স্থগিতাদেশে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠে গেল প্রশ্ন।

সোমবার হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি থাকবে। চার সপ্তাহ পর ফের মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত যেমন মানসিকভাবে বড় ধাক্কা, তেমনই ভোটের আগে মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারেরও। মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, এমন অনেক প্রার্থীর কাছে নিয়োগপত্র গিয়েছে, যাদের নাম মেধাতালিকাতে ছিল না।

ছাড়াও একাধিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ মেধাতালিকা ঘিরে। এরপরই আদালত সবদিক খতিয়ে দেখে নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেয়। এর ফলে যাদের কাছে নিয়োগপত্র পৌঁছেছে, সেগুলিও এখন কার্যকর হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবে পর্ষদ।

Comments