বাম ছাত্র-যুব দের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আগামীকাল ১২ বাংলা বন্ধের ডাক দিলো বামেরা

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  শিক্ষা, চাকরি, কর্মসংস্থান সহ অন্যান্য দাবিতে নবান্ন অভিযানে আন্দোলনরত বাম ছাত্র-যুব ওপর পুলিশের নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদে দোষী পুলিশদের শাস্তির দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার ১২ ঘন্টার বাংলা বনধের ডাক দিল বামেরা।

বামেদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার নিরীহ ছাত্র-যুব দেব উপর পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করেছে। প্যারা টিচার, মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর পুলিশ নির্মমভাবে আক্রমণ করেছে। দোষী পুলিশদের শাস্তির দাবিতে আগামীকাল ১২ ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাম ও সহযোগী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি।

আজ কর্মসংস্থানের দাবিতে বামপন্থী ১০টি ছাত্র যুব সংগঠনের ডাকে আজ নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাম ছাত্র-যুব এই নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় কলকাতা জুড়ে । মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে মাইকিং করা হয়, তার পরে ছোড়া হয় জলকামান।

অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ, জলকামান পরে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে  আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে তাতে একাধিক বাম ছাত্র-যুবক রক্তাক্ত হয়েছে। এখনো ছাত্ররা মেডিকেল, এনআরএস স্টুডেন্ট হেলথ হোম সহ বিভিন্ন কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি আছে ।

অন্যদিকে  ধর্মতলার কাছে ডোরিনা ক্রসিংয়ে পুলিশ মিছিল আটকাতে যে গার্ডরেল দিয়েছিল, তা ভেঙে মিছিল এগোতে থাকলেই শুরু হয় উত্তেজনা। মিছিল থেকে পুলিশের উদ্দেশে ফুটবল, কমলালেবু, ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। গোটা এসএন ব্যানার্জী রোড যেন যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

জানা গেছে, বামেদের অভিযান আন্দোলন মোকাবিলায় ফিল্ডে নেমেছিলেন  নতুন এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম। অভিযানে  আহত হয়েছেন ডিসি রশিদ মুনির খান। তাঁর হাত কেটে গেছে।

কংগ্রেস এই বাংলা বন্ধকে সমর্থন করা হলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনভাবেই এই বন্ধ বরদাশ্ত করা হবে না। জোর করে রাস্তা আটকে যান চলাচল বন্ধ করা যাবে না। গত কাল সমস্ত সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ হইতে । প্রতিটি সরকারি অফিসে শুক্রবার 100 শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে সরকারি কর্মীদের।

Comments