ফের ভাঙা হল মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি, উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ

 ঝাড়খন্ডে ভাঙ্গা হল মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি। রবিবার সকালে ঝাড়খন্ডের হাজারিবাগের মহাত্মা গান্ধী মূর্তি ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনায় রাগে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। উত্তেজনা ছড়ায় স্থানীয় এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজারিবাগের ওই এলাকায় গান্ধীজির একটি মূর্তি তৈরী করা হয়েছিল। মূর্তির চারপাশে লোহার জাল দিয়ে ঘেরাও ছিল। তা সত্তেও রবিবার সকালে মূর্তির এরূপ পরিণতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্রমে সেই উত্তেজনা বড় আকার ধারণ করে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা কর্মীরা সামীল হয় এই বিক্ষোভের। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে হাঙ্গামা করে তাঁরা।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ, এই যে মূর্তি ভাঙ্গার মত প্রথম ঘটনা তা নয়। এর আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা। বাম শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলুনিয়ায় লেলিনের মূর্তি বুলডোজার দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছিল। বিষয়টি স্থানীয় মানুষদের ক্ষোভের প্রকাশ বলে উল্লেখ করলেও সবাই বিজেপিকে দোষারোপ করেছিল এই ঘটনায়। এরপর গোটা দেশজুড়ে যেন শুরু হয় মনীষীদের মূর্তি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মহাত্মা গান্ধী থেকে শ্যামাপ্রসাদ, লেলিন থেকে বি আর আম্বেদকর সবার মূর্তিই ভাঙ্গা হয়েছে পরপর। অনেকদিন পর ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

 

তবে এদিনের ঘটনায় আবারও শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। হাজারিবাগের এই ঘটনায় বিজেপিসহ অন্য বিরোধীরা কটাক্ষ করেছে রাজ্যের জোট সরকারকে। তাদের কটাক্ষের সুর অনুযায়ী, কংগ্রেস সরকারে থাকা সত্তেও যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে কিছু বলার নেই। আসলে গান্ধীজির নাম করে ওরা ক্ষমতা দখল করলেও তাঁর জন্য কিছুই করে না এই সরকার। শুধু ওর নামটি ব্যবহার করে নিজের সার্থ পূরণ করার চেষ্টা করে। এবং রবিবার হাজারিবাগেও মিলল তার প্রমাণ।

এদিকে খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছোয়। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এ ব্যপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থানার এক আধিকারিক জানান,খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঐ মূর্তিটি নিজে থেকে ভেঙে পড়েছে নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সুবিধার্থে এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবং একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা একাজ করেছে তা এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Comments