টানা পাঁচ বছর ধরে চলছে জল সঙ্কট, অথচ প্রতিবারই ভোটের সময় মেলে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ উজ্জ্বল, পশ্চিম বর্ধমান, শেষ মেশ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আছড়ে পড়লো দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের ওপর। রবিবার ছুটির দিন কাঁকসার বামুনারার আদিবাসী অধ্যুষিত বাঁশপাড়া তেতুল পাড়া এলাকায় প্রচার করতে গিয়েছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার, আর সেখানেই স্থানীয়দের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে তৃণমূল প্রার্থীর ওপর।

অভিযোগ, ভোট আসলেই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেন আর ভোট পেরোলেই সমস্যা সমাধান না করেই পালিয়ে যান কেন হবে এইসব। রীতিমতো দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে। আর জনতার ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়ে সব কিছু নোট করে ভোটের পর ফের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন প্রদীপ বাবু।দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে কাঁকসার বামুনাড়ার বাঁশপাড়া ও তেতুল তলা এলাকা।

আদিবাসী অধ্যুষিত এই দুই এলাকায় প্রায় ৩০০পরিবার বসবাস করেন, এদের অভিযোগ কল আছে কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে কলগুলি, তাপ উত্তাপ নেই, এলাকায় দুটি কুয়ো রয়েছে কিন্তু সেই জল এত নোংরা খাওয়ার অযোগ্য, বাধ্য হয়ে প্রায় দের কিলোমিটার দূরে থাকা একটি বাজারের মধ্যে থাকা কল থেকে জল বয়ে তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে হয়।

এই ছাড়া তো রয়েছে বেহাল রাস্তা ও অন্যান্য সরকারী সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার প্রবল যন্ত্রনা। রবিবার তাই দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রচারে আসলে আশপাশ এলাকার স্থানীয় কিছু বাসিন্দাকে সাথে নিয়ে এরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের সামনেই। শেষ মেশ অস্বস্থি এড়াতে সব কিছু নোট করে নিয়ে এলাকা ছাড়েন। দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের সাফাই ছিল বর্ধমান দুর্গাপুরের সাংসদ বিজেপির, যাকে দেখা যায়না, আর দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক ছিলেন সিপিআইএমের, তাই তৃণমূল প্রতিনিধিদের দেখলেই মানুষ অভাব অভিযোগের কথা বলে, এটাই তো স্বাভাবিক।

অন্যদিকে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী কর্নেল দীপতাংশু চৌধুরী বললেন হার্মাদ আর উন্মাদ আজ মিলে মিশে একাকার আর জল দেবে দুর্গাপুর নগর নিগম,তারা ব্যার্থ আর যার দায় চাপাচ্ছেন বিজেপির ওপর। ২০১৯সালে লোকসভার ভোটের নিরিখে বিজেপ তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই রবিবার দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারকে ঘিরে ধরে দাবী আদায়ের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় এখন চরম বিড়ম্বনায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল।

Comments