স্বাধীন ভারতে এই প্রথম কোন মহিলার ফাঁসি হবে! অপরাধ শুনলে চমকে উঠবেন

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  নৃশংস অপরাধের জন্য স্বাধীন ভারতে অনেকেই ঝুলেছেন ফাঁসিতে দড়িতে। কিন্তু তাঁরা সকলেই ছিলেন পুরুষ আসামী। এই প্রথম ফাঁসিতে চড়ানো হচ্ছে এক মহিলাকে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করতে দিতেই প্রথম মহিলা আসামীকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে মথুরার জেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ফাঁসি কাঠ পরীক্ষাও করেছেন নির্ভয়া ধর্ষণকাণ্ডের চার পাণ্ডার ফাঁসি কার্যকর করা পবন জল্লাদ।

স্বাধীন ভারতে এই প্রথম একজন মহিলা অপরাধীকে ফাঁসি দেওয়া হবে। আমরোহা জেলার হাসানপুরের বাসিন্দা শবনম। বাবনেখেড়ি গ্রামের এক শিক্ষকের একমাত্র মেয়ে সে। কিন্তু সেলিম নামের স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শবনম। সুফি পরিবারের মেয়ে শবনম ইংরেজি ও ভূগোলে এমএম পাশ করেছিলেন।

অন্যদিকে– প্রেমিক সেলিম ক্লাস ফাইভ ফেল এবং দিনমজুর হিসাবে কাজ করত সে। ফলে শবনমের সঙ্গে সেলিমের সম্পর্ক বাড়ির লোক মেনে নেয়নি। এরপর ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে বাবা– মা– দশ মাসের ভাইপো সহ পরিবারের সাতজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছিল শবনম। এই নৃশংস ঘটনায় শবনমকে দোষী সাব্যস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মথুরা জেলে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের নির্দেশ দিয়েছে। শবনমের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

মথুরা জেলের সুপারিনটেনডেন্ট শৈলেন্দ্র কুমার মৈত্রেয় জানিয়েছেন, ফাঁসির দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। মিরাটের পবন জল্লাদ– যিনি নির্ভয়ার অভিযুক্তদের ফাঁসি দিয়েছিলেন, তিনিই শবনমকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাবেন। ফাঁসির দড়ি আসছে বক্সার থেকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নাতকোত্তর তথা পেশায় শিক্ষক শবনম ভালোবেসেছিলেন পঞ্চম শ্রেণি পাশ করা সেলিম খানকে। কিন্তু তার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন শবনম। আর তা নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। শেষ পর্যন্ত ঘর বাঁধার রঙিন স্বপ্নে প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে পরিবারের সব সদস্যকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শবনম।

২০০৮ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে সংগঠিত করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সাতজনকে খুনের ঘটনায় নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যে গল্পও ফেঁদেছিল পেশায় শিক্ষিকা শবনম। তদন্তকারীদের কাছে প্রথমে আনায়, ‘ডাকাতির উদ্দেশে বাড়িতে চড়াও হয়েছিল ডাকাত দল। সেই ডাকাত দলই তাকে বেঁধে রেখে পরিবারের বাকি সদস্যদের খুন করে সর্বস্ব নিয়ে পালিয়েছে।’

পরিবারের সাত সদস্যকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ২৫ বছর বয়সী শবনমকে। তার পর থেকে জেলই তার ঠিকানা। জেলে বসেই সন্তান প্রসব করেছেন খুনি মা।

Comments