বিশাল জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ! কোন কারনে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভোট দিল? 

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ নুর মোহাম্মদ,  এবার পশ্চিমবঙ্গে আবার পরিবর্তন হাওয়া তৈরি করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচন হয়েছে ৮ দফায়। রাজ্যজুড়ে মুহুমুহু প্রচারে করেছে বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি বারবার এসেছে বঙ্গ দখলের চেষ্টায়। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে। বিজেপিকে অনেকখানি পিছনে ফেলে ম্যাজিক ফিগারের অনেক বেশি অর্থাৎ ২০০ বেশি আসন নিয়ে আবারো পশ্চিম বাংলায় ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার মেয়ের কাছেই রইলো বাংলা।

কিন্তু কোন কোন কারণে তৃণমূলের এ বিশাল, তা দেখে নিন একনজরে;

দুয়ারে সরকার কর্মসূচি:  নিজেদের দ্বিতীয় জমানার একেবারে শেষেরদিকে সেই কর্মসূচি চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তা নিয়ে বিরোধীরা বিস্তর কটাক্ষ করলেও জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব যে পড়েছে, তা ভোটবাক্সে বোঝা গিয়েছে।

নিজেদের দ্বিতীয় জমানার একেবারে শেষেরদিকে সেই কর্মসূচি চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তা নিয়ে বিরোধীরা বিস্তর কটাক্ষ করলেও জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব যে পড়েছে, তা ভোটবাক্সে বোঝা গিয়েছে।

বিজেপি-বিরোধী ভোট এককাট্টা হওয়া: লড়াইটা যে বিজেপি বনাম তৃণমূল হবে, তা আগে থেকেই ভেবে নিয়েছিলেন ভোটাররা। সেইসঙ্গে বিজেপিকে রুখতে পারবে একমাত্র তৃণমূল – এমন ভাবনাও কাজ করেছে। তার ফলে বিজেপি-বিরোধী ভোটের বেশিরভাগটাই তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে গিয়েছে। সেই প্রমাণ মিলেছে তৃণমূলের ভোটের হার বৃদ্ধি পাওয়ায়। প্রাপ্ত ভোটের হারের নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের দিকে: পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু বলতে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান বিজেপি হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন। বঙ্গে বিজেপির নেতারা তাদের বক্তব্যে বারবার মুসলিম বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাতেই বঙ্গীয় মুসলমানদেের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা ভেবেছে বিজেপি সরকার এর থেকে তৃণমূল সরকার সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্রে নিরাপদ। বঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে ইমাম ভাতা, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি, নতুন হজ হাউস, সংখ্যালঘুুু ছাত্র-ছাত্রী ভাতা দ্বিগুণ। মুসলমানদের সামাজিক নিরাপত্তাতা, পশ্চিম বাংলার মুসলমানদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ভোট অধিকাংশ  ব্যানার্জির ঝুলিতে।

বামেদের ভোট রাম বিমুখ হওয়া: ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোটের বড় অংশ বিজেপিতে গিয়েছিল। তার ফায়দা পেয়েছিল গেরুয়া শিবির।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ:  যত শেষের দিকে এগিয়েছে ভোট, তত তৃণমূলের দাপট বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই সময় দেশে করোনার বাড়বাড়ন্ত তৈরি হয়েছিল। তা নিয়ে মোদী সরকারকে দোষে প্রচার চালিয়েছে তৃণমূল। যা ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলেছে।

মমতার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা:  প্রথম থেকেই মমতা বলে এসেছেন, ২৯৪ টি আসনেই প্রার্থী তিনি। নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরেছেন। যথারীতি সেই প্রয়াস কাজে দিয়েছে।

প্রশান্ত কিশোর ফ্যাক্টর:  ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূলের ভোটকুশলীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন পিকে। তাঁর কড়া ওষুধে দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হলেও ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান চলেছে। দলের খোলনলচে পরিবর্তনের ফলে তৃণমূলের জয়ের রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে।

Comments