কার ইন্ধনে গুলি চলল? ক্ষমতায় এলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবেঃ অভিষেক 

বেতার বার্তা নিউজ ডেস্কঃ  জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ রায়ের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেতার সভাকে ঘিরে এদিন জনসমুদ্রে ভাসে ময়নাগুড়ি টাউন নিউজক্লাবের ফুটবল ময়দান।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের সময় শীতলকুচির হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য তথা দেশ। এদিনের জনসভায় শীতলকুচির সেই প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দিল্লির কাছে বশ্যতা স্বীকার না করে ভোট দিতে যাওয়াটা বাঙালিদের বাড়াবাড়ি! এরা জায়গায় জায়গায় মানুষের উপর গুলি চালিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন ঘটনা ঠিক না। আর তাদের দলের রাজ্য সভাপতি বলছেন, যা হয়েছে ঠিক হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার বরানগরের একটি সভা থেকে করা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে রীতিমতো হুমকির সুরে তিনি বলেছেন, বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে পাল্টা দিয়ে বলেন– আপনার সঙ্গেও জায়গায় জায়গায় দার্জিলিং হবে। এদিন সভা থেকেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যটি মোবাইল থেকেই চালিয়ে শোনান অভিষেক।

তিনি বলেন, আমি দিলীপবাবুকে বলব, আপনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, ভাষা ঠিক করুন। এটা গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ নয়। জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে না। কিন্তু আপনি যদি নিজেকে না শোধরান তাহলে আপনার সঙ্গে জায়গায় জায়গায় দার্জিলিং হবে। শীতলকুচির ঘটনা ঘটার পর যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানো উচিত, সেখানে তারা বলছে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।

এরপর তিনি মঞ্চে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আচ্ছা বলুন তো আপনারা যদি আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালান, তাহলে হাতে গুলি চালান, পায়ে গুলি চালান । আর এখানে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়েছে বুকের মধ্যে। আর আত্মরক্ষার জন্যই যদি গুলি চালানো হয়– তবে যাদের উপর গুলি চালানো হল তাদের হাতে কোনও লাঠি ছিল কী? কোনও বন্দুক ছিল? কোনও ডান্ডা ছিল? কিছু ছিল না। তিন-চার মাস আগে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু সোনারপুরে বলেন, যে, সিআরপিএফকে বলব বুকে গুলি মারতে। এরপর মঞ্চ থেকেই তাঁর সেই বক্তব্য মোবাইলে শোনান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলেন, তার মানে এর পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হচ্ছিল। বাংলার মানুষের বুকে গুলি চালানোর পরিকল্পনা।

উল্লেখ্য,শনিবার চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে পাঁচজন প্রাণ হারান। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। ক্ষমতায় এলে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আমি দোষ দিই না।

কিন্তু কার নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালাল? আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। যত বড় মাথা থাকুক, টেনে হিঁচড়ে বের করা হবে। এই তরতাজা প্রাণ যারা কেড়ে নিয়েছে, এর শেষ দেখে ছাড়ব। যদিও এদিন ময়নাগুড়ি ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ফাঁসিদেওয়া– মালবাজারে নির্বাচনী প্রচারে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Comments